মোরগের খামার ভাঙচুর : উপজেলা চেয়ারম্যানের অস্বীকার

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০২০

মোরগের খামার ভাঙচুর : উপজেলা চেয়ারম্যানের অস্বীকার

নিউজ ডেস্ক: লোকজন নিয়ে জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুক উপজেলার আমতৈল গ্রামে একটি মোরগের খামার ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। শুক্রবার (১ মে) রাতে এঘটনা হয়। তবে ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোঈদ ফারুক।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ওই গ্রামে ‘বন্ধু পোলট্রি ফার্ম’ নামের দীনবন্ধু সেনের একটি মোরগের খামার রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে খামারটি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে খামার মালিকের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দু’টি মামলাও আদালতে চলমান আছে। শুক্রবার রাতে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে খামারে ভাংচুর চালানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এবং ভাঙচুর কারীদের ধাওয়া করেন। এসময় মোঈদ ফারুক সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

 

শুক্রবার রাতে ঘটনার পর খামার মালিক দীনবন্ধু সেন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, “রাত সোয়া দশটার দিকে খামারে হামলার খবর পেয়ে আমি বাড়ী থেকে খামারে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুকের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন লোক খামারে ভাঙচুর করছেন। আমি বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে ফারুক গালাগাল করেন, আমার বুকে পিস্তল ধরে আমার বাড়ীঘর ভেঙ্গে ফেলা ও মেরে ফেলার হুমকি দেন”।

 

ইতঃপূর্বে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছিলেন জুড়ীর বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনিজীবি, নাগরিক অধিকার ও আইন সহায়তা ফোরামের চেয়ারম্যান এডভোকেট মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, দীনবন্ধু সেন ২০১৬ সালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন নিয়ে ‘বন্ধু পোল্ট্রি ফার্ম’ নামে মোরগের খামারটি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে প্রতিবেশী আব্দুল মতিনদের  সাথে তার বিরোধ তৈরি হলে তারা পরিবেশ দুষণের অভিযোগ তুলেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় খামার উচ্ছেদের জন্য দরখাস্ত দেন। খামারের মালিক জানতেন না যে এরূপ খামার করতে হলে শুধুমাত্র স্থানীয় অনুমোদনে  হবে না, সাথে পরিবেশ ছাড়পত্রসহ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাগবে। বিষয়টি জানার পর তিনি  এসবের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ধার্য সরকারি ফীসমূহ পরিশোধ করে আবেদন করেন। সম্ভবত তা প্রক্রিয়াধীন আছে।

 

আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খামার মালিক দীনবন্ধু আব্দুল মতিনদের বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালত (কুলাউড়া) মৌলভীবাজারে একটি নিষেধাজ্ঞার মামলা (নম্বর ১৪০/২০১৯) দায়ের করলে আদালত কেন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না মর্মে বিবাদীদের প্রতি নোটিশ জারী করেন।  শুনেছি বিবাদীরা এখনও নোটিশের জবাব দেননি। পরে আব্দুল মতিন বাদী হয়ে খামার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন মর্মে খামার মালিকের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারী মামলা (নম্বর ৫৯২/১৯-জুড়ী) দায়ের করেন। বর্তমানে দু’টি মামলাই আদালতে বিচারাধীন আছে।

 

তিনি আরও জানান, সম্ভবত এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে উভয়পক্ষে একটি বিরোধ তৈরি হয়। খামার মালিক আমাকে  জানালে আমি বিবাদিগণের সাথে ফোনে কথা বলে বিষয়টির একটি ন্যায়তঃ সমাধান করা যায় কিনা তা জানালে উভয়পক্ষই বিরোধীয় স্থানে যাবার আহবান জানান। পরে আমি জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’পক্ষ নিয়ে বসি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অনুরোধ করলে খামার মালিক তার খামারের বর্তমান ডিম উৎপাদন শেষ হয়ে গেলে তিনি খামার বন্ধ করে দিবেন মর্মে লিখিত অঙ্গীকার দিতে রাজি হন। আব্দুল মতিনরা তাৎক্ষণিকভাবে খামার বন্ধ করতে হবে দাবি  করেন। আমি উভয় পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্ত পরিস্থিতি বজায় রেখে মামলার সিদ্ধান্তের উপর সম্মান দেখিয়ে মামলাগুলো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দিলে উভয় পক্ষ রাজিও হন।

 

আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান  এম এ মোঈদ ফারুক শনিবার রাত ন’টায় ‘জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’কে মুঠোফোনে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভর্তুকি দিয়ে জুড়ীতে দু’টি  কম্বাইন হার্ভেস্টার (ধান কাটার যন্ত্র) দেন। শুক্রবারে বাছিরপুরে একটিসহ সেগুলোর চাবি হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যায় ওই এলাকার অনেকেই আমাকে ফোন দিয়ে অনুরোধ করেন সেখানে যাওয়ার জন্য। আমি তারাবীর নামাজ পড়ে সেখানে গিয়ে ওই খামারের পাশে মেশিন ক্রেতা শাহজাহানসহ স্থানীয়দের সাথে মেশিন নিয়ে আলাপ করি। একপর্যায়ে স্থানীয়রা আমার কাছে দীনবন্ধুর খামারের দূর্গন্ধের বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন আমার কাছে তারা অনেকবার এ বিষয়ে আবেদন জানালেও আমি ব্যবস্থা নেইনি। আমি তাদেরকে বললাম এটা আইনের বিষয়। যেহেতু তার অনুমোদন নেই সে কারণে প্রাণী দপ্তর থেকে তাকে নোটিশও দেয়া হয়েছে। এরপরও আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব বলে আশ্বস্ত করি। কথা বলার এক পর্যায়ে উপস্থিত লোকজন খামারের পাশের নেটগুলো ছেঁড়া শুরু করে। আমি কয়েকজনকে বলেছি এরকম না করে যার যার বাড়ীতে চলে যাওয়ার জন্য। পরে আমি দীনবন্ধুকে খবর দেই তার খামার  দেখে যাওয়ার জন্য কারণ এঘটনার পর অন্যরা যদি খামার লুটপাট করে এবং মেশিনের ক্ষতিও হতে পারে। কিন্তু সে তখন আসেনি এবং আমি সেখান থেকে চলে আসি”।

 

পিস্তলের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার কাছে কোন অস্ত্র থাকার প্রশ্নই আসেনা। তখন আমার হাতে একটি টর্চ লাইট ও আমার এন্টি স্মোক যন্ত্র ছিল। তারা এগুলোকে পিস্তল বলে চালিয়ে দিয়েছে”। মোঈদ ফারুক বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ যারা ছিল তারাই ঘটনাটি সাজিয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

 

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার শনিবার রাত দশটায় ‘জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’কে জানান, লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য দীনবন্ধু থানায় এসেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এনডিআই