শোকজ নিয়ে কি ভাবছেন জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান?

প্রকাশিত: ২:২৭ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০২০

শোকজ নিয়ে কি ভাবছেন জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান?

তানজির আহমেদ রাসেল, ইমরানুল ইসলাম: জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুককে পোলট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর, ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন ভাঙচুর এবং করোনা পরিস্থিতিতে গণজমায়েত সৃষ্টির অভিযোগে কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। শোকজের উত্তর নিয়ে কি ভাবছেন তিনি? শুক্রবার (৮ মে) নিজ বাসভবনে ‘জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’ এর সাথে দীর্ঘ আলাপে তা জানিয়েছেন মোঈদ ফারুক।

 

গত ৫ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের (উপজেলা-২ শাখা) উপসচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সই করা একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, তাঁকে (উপজেলা চেয়ারম্যান) উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত এর ১৩ (খ) ও (গ) ধারা অনুযায়ী, কেন স্বীয় পদ থেকে অপসারণের কার্যক্রম শুরু করা হবে না-এ মর্মে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য।

 

“উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮” এর ১৩ ধারাটি হচ্ছে “চেয়ারম্যান ইত্যাদির অপসারণ” বিষয়ক। সেখানে “চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা মহিলা সদস্যসহ যে কোন সদস্য তাঁহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি” উল্লেখ করে (খ) ধারায় বলা হয়েছে  “পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থের হানিকর কোন কার্যকলাপে জড়িত থাকেন অথবা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হন”। আর (গ) ধারায় বলা হয়েছে “অসদাচরণ, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন অথবা পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সাধন বা উহার আত্মসাতের বা অপপ্রয়োগের জন্য দায়ী হন”।

 

মোঈদ ফারুক বলেন,  খামার ভাঙচুর বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এ ধারাদ্বয়ে আমাকে অভিযুক্ত করার কোন সুযোগই নেই। আমার জবাবে আমি উল্লেখ করব- পোলট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর, ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন ভাঙচুর এবং করোনা পরিস্থিতিতে গণজমায়েত সৃষ্টির সাথে আমি কোনওভাবে জড়িত ছিলাম না এবং এর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

 

মোঈদ ফারুক বলেন, আমার জবাবে অবশ্যই আমি উল্লেখ করব- আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ উপজেলার উন্নয়নে আমার কাজ, মানুষের আস্থা অর্জন এবং জনসেবা দেখে হিংসার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে আমাকে বিপাকে ফেলার জন্য। আমি স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি সরেজমিন নিরপেক্ষ তদন্তের জন্যও আবেদন করব।

 

মোঈদ ফারুক বলেন, আমি ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমি সবখানেই বলেছি যে- ঘটনার দিন সকালে উপজেলা পরিষদে দু’টি কম্বাইন হার্ভেস্টার (ধান কাটার যন্ত্র) বিতরণ করা হয়। এদিন বিকেলে স্থানীয় লোকজন আমাকে ফোন দিয়ে মেশিনটি দেখতে যেতে বলেন এবং তারাবীর নামাজের পর আমি সেখানে যাই। ওই খামারে মেশিনটি রাখা ছিল। মেশিনটি দেখার পর আমি আসার সময় উপস্থিত লোকজন খামার থেকে দূর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি বিষয়টি আইনানুগভাবে দেখব বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করি। আমি আলাপে থাকাকালে আমাকে ফাঁসাতে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ভাবে কয়েকজন লোক খামার ভাঙচুর শুরু করলে আমি পুলিশকে ফোন দিয়ে সেখান থেকে চলে আসি।

 

মোঈদ ফারুক বলেন, পরে শুনলাম ৪ কিলোমিটার দুরে বাড়ী থাকা সত্বেও আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষদের একজন সেখানে উপস্থিত হন। আমি মনে করি- আমি সেখানে যাব শুনেই তারা মানুষ রেডী করেছে এই বিষয়টি ঘটানোর জন্য। আর আমি আসার পরে তারাই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে দায় আমার ঘাড়ে চাপাতে চাচ্ছে।

 

মোঈদ ফারুক বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি এসব ষড়যন্ত্রে ভয় পাইনা। রাজনীতি করলে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে যেতে হয়। আমার উপজেলার মানুষ আসল ঘটনা জেনেছেন এবং আমার পাশে আছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে কর্তৃপক্ষও বিষয়টি বুঝবেন।

 

জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এস/আইআই