জুড়ীর শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ : ঘুষের টাকা জব্দ

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

জুড়ীর শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ : ঘুষের টাকা জব্দ

নিউজ ডেস্ক: ঘুষ নিয়ে কাজ না করার অভিযোগে জুড়ীর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছে একটি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। পরে ঘুষের টাকা জব্দ করে জুড়ী থানা পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে দশটায় শিক্ষকদের এমপিও সংশ্লিষ্ট কাজে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সাদেকের কার্যালয়ে যান শাহপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। শিক্ষকরা দাবী করেন- শিক্ষা কর্মকর্তা কাজ করতে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চাইলে তারা ১৭ হাজার টাকা দেন। পুরো টাকা না দিলে তিনি কাজ করবেন না বলে জানান। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা টাকা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

 

এদিকে, ঘুষের ১৭ হাজার টাকা অফিস সহকারী আব্দুস সহীদের কাছে রেখে দেন শিক্ষা কর্মকর্তা। সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যা ছ’টায় জুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সেখানে গিয়ে টাকাগুলো জব্দ করেন।

 

মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. আবুল হোসাইন বলেন “গত ৬ মে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের এমপিওর নথি আমরা এ কর্মকর্তাকে দেই। কিন্তু ৪ মে জমার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি জমা না করে নিজের কাছে রাখেন। পরে ২১ মে থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত জমার মেয়াদ বাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আমরা পূর্বের জমা করা নথি তাড়াহুড়ো করে জমা দেয়ায় সংশোধনের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বললে তিনি এ কাজের জন্য ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। আমরা বাধ্য হয়ে ১৭ হাজার টাকা জোগাড় করে তাঁকে দিলে তিনি ১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জনের নথি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে বাকি ৭ জনের নথি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা করে দেন। আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ করে না দেয়ায় আমরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছি”।

 

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সাদেক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- “তাদের কাজ করতে আমি কোন টাকা দাবী করিনি। তারা পূর্বের জমা করা নথি সংশোধন করে পূণরায় জমার জন্য বললে আমি তা করে দিতে রাজী হই। ৬ জনের তথ্য সার্ভার থেকে মুছে দেয়ার পর সার্ভারের ভূলে পরের ৭ টি জমা হয়ে যায়। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি সেগুলোও মুছে দেয়ার জন্য। তিনি বাইরে থাকায় পরে করবেন বলে জানান। কিন্তু এরা আমার কথা না শুনে আমাকে কার্যালয়ে আটকিয়ে রেখেছে”।

 

অবরুদ্ধ করে রাখার সংবাদ তিনি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা পুলিশকে অবহিত করেননি বলেও জানান গোলাম সাদেক।

 

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় ‘জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’কে মুঠোফোনে জানান, আমি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। পুরো বিষয় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

 

 

 

 

ঘটনার ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

 

জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এস/আইআই