স্বজন ছেড়ে নিরলস লড়ছেন সাইদুর

প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০

স্বজন ছেড়ে নিরলস লড়ছেন সাইদুর

বিশেষ প্রতিবেদক: ‘বাবা দেশ স্বাধীনের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। জয়ীও হয়েছেন। আমি তো সেই বাবার সন্তান। করোনাযুদ্ধে লড়ছি। কোনো ভয় নাই। আমরাও জয়ী হব। ইতিমধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এটা আশা জাগাচ্ছে। একদিন করোনার আঁধার কেটে যাবে।’

 

কথাগুলো বলছিলেন কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরোটরি) সাইদুর রহমান চৌধুরী। মুক্তিযোদ্ধা বাবার এই সন্তান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করে চলেছেন করোনার বিরুদ্ধে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ২১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আর এ জন্য প্রায় দুই মাস ধরে স্বজনদের ছেড়ে একই শহরে আলাদা বাসায় থাকতে হচ্ছে সাইদুর রহমানকে।

 

সাইদুর রহমান জানান, তাঁদের মূল বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পুরানগাঁও গ্রামে। তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান চৌধুরী কুলাউড়া জংশন রেলওয়ে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অবসর নেন। সেই সুবাদে তাঁদের কুলাউড়ায় বসবাস। সাইদুর ২০০৮ সালে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের চাকরি পান। তাঁর স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা। তাঁদের সংসারে আছে তিন ছেলে।

 

করোনার সংক্রমণ শুরু হলে সাইদুরের ওপর নমুনা সংগ্রহের ভার পড়ে। পরে কাজ শুরু করে দেন। নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়ার পর শহরে আলাদা একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে একা থাকেন। নিজে রান্না করে খান। এ কাজে তাঁকে উৎসাহ জোগান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল হক। নমুনা সংগ্রহের সময় উপজেলার স্যানিটারি পরিদর্শক জসিম উদ্দিন তাঁকে সহযোগিতা করেন।

 

সাইদুর বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বলেন, মার্চ মাস থেকে বুধবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ১৯৪ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে আটজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় তাঁদের পাঁচজনের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। অন্যদের দ্বিতীয় দফা পরীক্ষার ফলাফল এখনো মেলেনি।

 

সাইদুর বলেন, চাকরির পাশাপাশি ‘নিরাপদ স্বাস্থ্য রক্ষা আন্দোলন’ নামের তাঁদের একটি সংগঠন রয়েছে। তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। ২০১৪ সালের ১ মার্চ এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এর সদস্য এখন ২০০ জন। সংগঠনের প্রধান কাজ স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। সংগঠনের তালিকাভুক্ত এক হাজার রক্তদাতা রয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে রক্ত দেন। সংগঠনের উদ্যোগে প্রায়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল হক বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহে সাইদুরই এখন আমাদের ভরসা। করোনা মোকাবিলায় আমাদের মতো স্বজনদের সঙ্গ ছেড়ে তিনিও নিরলসভাবে লড়ছেন।’

 

জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/বিপি/কেপি