বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের অবসান চায় জাতিসংঘ

প্রকাশিত: ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের অবসান চায় জাতিসংঘ

তানজির আহমেদ রাসেল: বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের দ্রুত অবসান দাবি করেছে জাতিসংঘ।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায়।

 

বিশেষজ্ঞ টিমের বিবৃতিতে পক্ষকাল সম্পাদক ও ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার, নিপীড়ন এবং এর আগে তার সন্দেহজনক গুম হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় ।

 

মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের বিশেষজ্ঞ টিম তাদের বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কাজলকে আটকে রাখা ও তাঁর বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাগুলি প্রমাণ করে যে বাকস্বাধীনতা রোধ করতে বাংলাদেশে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

সাংবাদিকতা সমাজের জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে, বিশেষজ্ঞরা বলেন, শফিকুল ইসলাম কাজলের মতো অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের টার্গেট করে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি বাংলাদেশের যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেটা গুরুতর প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এ ধরনের নিপীড়ন সাংবাদিক, তাদের পরিবার ও সর্বোপরি সমাজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে । বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, গত ১০ মার্চ গ্রেপ্তারের আগে কাজল বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের একাধিক রাজনীতিবিদের নারীঘটিত বিষয় নিয়ে কাজ করছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল।

 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাজলের নিখোঁজ হওয়ার তদন্তে কর্তৃপক্ষের গুরুতর ত্রুটির বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও কর্তৃপক্ষ তার সাংবাদিকতা কার্যক্রমের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় কাজলের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১০ মার্চ গুম হবার পর ৩ মে ভারতীয় সীমান্তে কাজলকে পাওয়া যায়। চোখে কাপড় বেঁধে, দু’হাত পিছমোড়া করে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রেবেশের দায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় তাঁর জামিন ও মুক্তির আদেশ প্রদান করা হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আদালতের আদেশে তাঁকে প্রি-ট্রায়ালের জন্য পনের দিনে আটক রাখা হয়েছিল। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও তাঁকে মুক্তি না দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

কাজলকে আটকের বৈধতা পর্যাপ্ত বিচারিক পর্যালোচনা সাপেক্ষে হয়েছে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আপাতদৃষ্টিতে তাঁর আটকে আইনানুগ কোনো ভিত্তি নেই বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আর যদি তা প্রমাণিত হয় তাহলে এটা হবে মানবাধিকার আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে যেখানে কোভিড-১৯ সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞ দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কাজলের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান। তার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেটির বাস্তবায়ন ও বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পর্যালোচনার দাবি করেন।

 

বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম ও নিখোঁজ হওয়া প্রতিটি মামলার তাৎক্ষনিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কিত ৬০ টিরও বেশি উন্মুক্ত মামলা জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের ডেটাবেজে রয়েছে।

 

বিবৃতি দাতা জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা হলেন মত প্রকাশের অধিকার প্রচার ও সুরক্ষা সম্পর্কিত বিশেষ দুত ডেভিড কায়ে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, মৃত্যুদন্ড ও নিখোঁজ বিষয়ক ওয়াকিং গ্রুপের দুত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড, চেয়ার লুসিয়ানো, ভাইস চেয়ার তায়ে-উং, হউরিয়া এস স্লামি, হেনরিকাস মিক্কেভিয়াস. বার্নাড ‍ডুহাম এবং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ দুত ডেইনিয়াস পেরাস প্রমূখ।

 

নিউজ ডেস্ক/জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ইউএস/টিএআর