অসুস্থ রাজনৈতিক মাঠ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার?

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

অসুস্থ রাজনৈতিক মাঠ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার?

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু: রাজনীতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যা দ্বারা নাগরিক সরকারের রাজনীতিকেই বোঝানো হয়। তবে অন্যান্য অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যেমন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেখান মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বিদ্যমান, সেখানে রাজনীতি চর্চা করা হয়। রাজনীতি কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার ভিত্তিতে সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে গঠিত।

 

রাজনীতিতে কিছু লোক আসে শুধু আখের গোছানোর জন্য। ‘হালুয়া রুটির রাজনীতি’ আসলে রাজনীতির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্ব নয়। এটি ব্যবহার করা হয় ব্যঙ্গার্থে। যারা শুধু একটু ক্ষমতার লোভে রাজনীতিতে পদার্পণ করে এবং রাজনৈতিক জীবনে ওই একটু ক্ষমতার (হালুয়া রুটি) জন্য নিজেদের ভিতর দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।

 

যদি দেশের সেবা করতে চান তবে দলে দলে রাজনীতিতে যোগ দিন। সর্টকাটে দেশ সেবার একমাত্র মাধ্যমে হচ্ছে রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা এবং ছাত্রদেরকে দেশ পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য করে গড়ে তোলা। এই পথ এখন অনেকাংশে বন্ধ।

 

রাজনীতি সত্যিই মূল্যবান। এটা যোগ্য নেতৃত্ব বের করে আনে যা দেশকে সঠিক পথে চলার জন্য সহায়ক। পাশাপাশি শিক্ষিত ও রাজনীতি সচেতন প্রজন্ম তৈরি হয়, ফলে এরা দেশের উন্নয়নে প্রভূত অবদান রাখতে পারে। কিন্তু এটা কি চলছে আমাদের দেশে? এটা রাজনীতি না অপরাজনীতি? এরকম নোংরা রাজনীতি থাকার চেয়ে না থাকা হাজারগুনে ভালো।

 

রাজনীতির মাঠে স্থায়ী শত্রুতা স্থায়ী বন্ধুত্ব বলতে কিছু নেই। রাজনীতি সবসময় প্রতিযোগীতা নির্ভর মানবসেবা মূলক হওয়া উচিত। কখনো কখনো রাজনীতি এমন প্রতিহিংসায় রুপ নেয় যা সামাজিক এবং পারিবারিক বন্ধনকেও দূরে ঠেলে দেয়।

 

রাজনীতি করা বা রাজনৈতিক যে কোন একটা দল সমর্তন করা প্রত্যক নাগরিকের ব্যক্তিগত নাগরিক অধিকার। সেই অধিকারকে এখন আর অধিকার হিসাবে দেখা যায় না। এক দলের লোক অন্য দলের ব্যক্তির সাতে বসা যাবে না, কথা বলা যাবে না, সামাজিক আচার অনুষ্টানে ছবি তুলা যাবে না, আন্তরিক সম্পর্ক কথা বলা যাবে না এটা সুস্থ রাজনীতির মানদন্ড হতে পারে না।

 

তাইতো জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর  ডটকমের সম্পাদক যথার্থ বলেছেন, “নেতারা আজ শত্রু কাল বন্ধু। আর এই নেতাদের কারণে বন্ধু-বন্ধু কর্মীরা শত্রু-শত্রু হয়ে যায়। নেতাদের শত্রুতা বন্ধুত্বে মিলায়। কর্মীদের শত্রুতা আজীবন থেকে যায়”।

 

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য মানবতার তরে। আজ এক দল ক্ষমতায় কাল অন্য দল ক্ষমতায় থাকবে, এটা চিরন্তন সত্য। তাই বলে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার জন্য কোন ব্যক্তি গোষ্টিকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিঃস্ব করে দেওয়া সুস্থ রাজনৈতিক মতাদর্শ হতে পারে না।

 

ওপরদিকে নিজ বলয়ের গ্রুপিং প্রতিযোগিতা বর্তমান সময়ে মারাত্মক হিংসায় নিমজ্জিত হচ্ছে। এমনকি গ্রুপিংকে কেন্দ্র করে অনেকাংশে সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে যা সুস্থ রাজনীতির জন্য সহায়ক নয়। গনতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে সুন্দর পরিবেশে রাজনীতি করার পরিবেশ তৈরি এবং সকল রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দের দ্বায়িত্বশীল ভালো আচরন কাম্য। অন্যথায় ভালো পরিবারের শিক্ষিত, সৎ ও আদর্শবান ছেলেরা রাজনীতিবিমূখ হয়ে যাবে। অশিক্ষত ও মাদকাসক্ত ছেলেরা রাজনীতিতে ঢুকে দেশের নেতৃত্বে চলে আসবে। ফলে সামাজিক অশান্তি বেড়ে যাবে, দেশের কাংখিত সফলতা সম্ভব হবে না।

 

আজকের সাধারন রাজনৈতিক কর্মি আগামী দিনের চেয়ারম্যান, মেম্বার, এমপি, মন্ত্রী। তাই এ নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গাকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে মেধাবী, সৎ ও আদর্শবান তরুণদের রাজনীতিতে প্রবেশাধিকারের মাধ্যম। কারণ আজ যারা এমপি, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান; আগামী এক দুই দশক পরে এদের কেউ কী পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন? সময়ের ব্যবধানে সবাইকে চলে যেতে হবে এটা চিরন্তন সত্য।

 

অতএব আমরা কার হাতে এই দেশকে রেখে যাচ্ছি এ ভাবনাটা বর্তমানদেরই ভাবতে হবে। রাজনীতিবিদরাই হচ্ছেন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। দেশের বড় বড় অর্জনগুলোতে তাদের অবদান থাকে বা তাদের নেতৃত্বে হয়। আর ছাত্র রাজনীতি হলো এই নেতৃত্ব তৈরির কারখানা। ছাত্র রাজনীতি থেকেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তবে ভালো ছাত্র নেতৃত্ব তখনই গড়ে ওঠবে যখন দেশে সুস্থধারার রাজনীতি বিরাজমান থাকবে। যদি ধরোমারো, টেন্ডারবাজি, খুন, ধর্ষণ নিয়ে ছাত্র রাজনীতি থাকে তাহলে সেখান থেকে শুধু দেশের অপশক্তিই উৎপন্ন হবে। অতএব এই দেশটাকে উন্নত করতে হলে নেতৃত্বের জায়গাকে পরিছন্ন করতে হবে।

 

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার, জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমক।