এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে চা-কন্যা অঞ্জলী

প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে চা-কন্যা অঞ্জলী

মো. আফিফুর রহমান: জুড়ীর ফুলতলা ইউনিয়নের এলবিনটিলা চা বাগানের শ্রমিক দম্পতির কন্যা অঞ্জলী রানী ভৌমিক বন্দর নগরী চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এ সুযোগ পেয়েছেন।

 

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন পরিচিত। যা অগ্রসরমান বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে নারীশক্তি বিকশিত করার জন্য কাজ করে চলছে।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রতি বছর একজন শিক্ষার্থীর জন্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলার খরচ বহন করবে প্রতিষ্টানটি।

 

এলবিনটিলা একটি দুর্গম বনাঞ্চল প্রবণ এলাকা। চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় দিনের বেলায় এলাকাগুলো থাকে নির্জীব। জরাজীর্ণ পরিবেশে বেড়ে উঠা যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়াফোটা নেই।প্রযুক্তির ছোঁয়া যেখানে দূরের কথা সেখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া দুষ্কর। বিদ্যুৎ বিহীন কেরোসিন তেল, মোমবাতির আলোয় পড়ালেখা করে কঠোর অধ্যাবসায়ী এই অদম্য শিক্ষার্থী অঞ্জলী তাঁর লক্ষ্যের পানে ছুটে চলছে বলে জানান।

 

তিনি ২০১৭ সালে ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও ২০১৯ সালে হাজী আপ্তাব উদ্দিন আমিনা খাতুন কলেজ থেকে একই বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে সফলতা অর্জন করেন। গত ৭ মার্চ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা-বাগান থেকে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে মোট ১৯ জন উর্ত্তীণ হন। সেখান থেকে মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে মোট ১৪ জন চা-বাগানের মেয়ে আন্তর্জাতিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। উর্ত্তীণকৃতদের মধ্যে অঞ্জলী একজন।

 

অঞ্জলীর এই সফলতায় তার বাবা-মা অমৃত ভৌমিক ও রতনমনি ভৌমিক আনন্দিত বলে জানিয়েছেন।

 

জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এনপি/এমএআর