স্যালুট ফ্রন্টলাইনার ফাইটার্স

প্রকাশিত: ১:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

স্যালুট ফ্রন্টলাইনার ফাইটার্স

অসীম কুমার উকিল: আজ দুই মাসের অধিক গ্রামের বাড়িতে আছি সস্ত্রীক। একটানা এত দিন গ্রামে সর্বশেষ কবে ছিলাম ঠিক মনে করতে পারছি না। দীর্ঘ সময় গ্রামে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে কিংবা অস্বস্তিতে আছি বিষয়টি তা নয়। আবার এত দিন গ্রামে থাকব এমন প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম তাও নয়। করোনায় আক্রান্ত এলাকাবাসীর পাশে এসে মনে হলো এ সময়টাতে এলাকায় থাকাই শ্রেয়। আর তাই তো থেকে যাওয়া।

 

নেত্রকোনোর কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলা নিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনা-৩ গঠিত। কেন্দুয়া উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। অন্যদিকে আটপাড়া উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন। আটপাড়া উপজেলায় কোনো পৌরসভা নেই। কেন্দুয়া উপজেলার জনসংখ্যা ৩,০৪,৭২৯ এবং ভোটার ২,৫২,৯৪২। পক্ষান্তরে আটপাড়া উপজেলার জনসংখ্যা ১,৩২,৪৪০ আর ভোটার ১,০৮,৯৭৭।

 

আমার এলাকার স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত। ফলে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সামগ্রিক ত্রাণ কর্মকান্ড এবং দলীয় কর্মকান্ড সমন্বয় করা আমার জন্য খুবই সহজ ছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে স্বল্পকালীন অভিজ্ঞতায় আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে নির্মোহ ও নির্লোভ থেকে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারলে জনসমর্থন মেলে শতভাগ। ত্রাণ কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যখন নির্দেশ দিলেন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যন্ত সহযোগী সংগঠনসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ত্রাণ কমিটি গঠন করে সামগ্রিক কর্মকান্ডে সহায়তা করার জন্য তখনই সারা দেশের চিত্রটা পাল্টে গেল। দলের নেতা-কর্মীরা যেন কাজ পেল। জেলা আওয়ামী লীগ যখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগকে ত্রাণ কমিটি গঠন করতে বলল দেখা গেল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন সম্পন্ন করে জেলা আওয়ামী লীগের দফতরে পাঠিয়ে দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। ত্রাণ কমিটিতে সহযোগী সংগঠনসহ তৃণমূলের নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তটি ছিল সময়োপযোগী। আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের একটা ব্যবধান হয়ে যায়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংগঠন সমন্বয় করে চলাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিভিন্ন সময় সংকট দেখা দেয়। আর যেসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দলের সঙ্গে সমন্বয়টুকু সুন্দরভাবে করতে পারেন তাদের সাংগঠনিকভাবে কোনো সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় না। স্থানীয়ভাবে সরকারের কর্মকান্ড একটি নির্দিষ্ট ছকে পরিচালিত হয়। যেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সদস্য এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন; সেখানে সংগঠন বিবেচনায় করার কোনো সুযোগ নেই।

 

কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলায় বেশকিছু মানুষ করোনা আক্রান্ত। ইতোমধ্যে কয়েকজন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত কেন্দুয়া আটপাড়ায় অনেক করোনা আক্রান্ত রোগী আছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসের ইউএনওসহ ১০ জন এবং থানা অফিসের ওসিসহ ১২ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। কেন্দুয়ার উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার করোনা আক্রান্তের খবরে এলাকায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে যোগদান করেন কেন্দুয়া উপজেলায়। প্রায় দুই বছর হতে চলল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি ইউএনওর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জামালপুরের ছেলে রাশেদুজ্জামান কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন উপজেলা পর্যায়ে দুই শীর্ষ আমলার সুদক্ষ পরিচালনায় অগ্রসর হচ্ছে কেন্দুয়া উপজেলা। আটপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা উপজেলায় এসেছেন প্রায় এক বছর হলো। তারও ইউএনও হিসেবে প্রথম পোস্টিং এখানে। ঝড়বৃষ্টিতে ঘরে শিশু সন্তান কোনো কিছুই তার কাজের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ঘূর্ণিঝড়বিধ্বস্ত এলাকায় ছুটে গেছেন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। করোনা আক্রান্ত রোগীর আইসোলেশনের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করে ঘরে ফিরেছেন। আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে যোগদান করেন। এখানেও উপজেলা পর্যায়ে এ দুই শীর্ষ কর্মকর্তার যৌথ ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস আমার কর্মকান্ড পরিচালনায় সহযোগিতা করে আসছে। মরণব্যাধি করোনার হিংস্র ছোবলের শুরু থেকেই প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আসছেন। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমাকে কোনো বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়নি কখনো। লকডাউনের শুরু থেকেই ইউএনও এবং ওসি মহোদয় একসঙ্গে চষে বেড়িয়েছেন উপজেলার এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত। করোনাভাইরাস আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বিভিন্ন পর্যায়ের লকডাউন। আর লকডাউনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় হতদরিদ্র দিনমজুর নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। আর কেন্দুয়া-আটপাড়া উপজেলার এসব মানুষের মাঝে মানবিক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৫১৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চালের সঙ্গে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন ডাল, তেল, আলু কেনার জন্য ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অসহায় শিশুদের কথা ভুলে যাননি। আর তাই তো এ দুই উপজেলায় শিশুখাদ্যের জন্য ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দিয়েছেন। এর বাইরেও সংসদ সদস্যের নিজস্ব অর্থায়নে দলীয়ভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে চাল, ডাল, তেল, সাবান, মাস্ক, ইফতারসামগ্রী ও ঈদবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে একাধিকবার। আর ত্রাণের এ বিশাল কর্মযজ্ঞ অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মী এবং প্রশাসনের আন্তরিক সৎ উদ্যোগের কারণে।

 

করোনাভাইরাসের এ ভয়াবহতাকালে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় ছিল বাইরে থেকে আগত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী কর্মকর্তা। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন পেশার মানুষ যখন কেন্দুয়া-আটপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে আসছেন তখন আমরা চমকে উঠতাম এই বুঝি করোনা এলো। আমাদের এখানেও প্রবাসে কর্মরত বেশকিছু মানুষ আছেন যারা ইতিমধ্যে দেশে ফিরে নিজ বাড়িতে এসেছেন। যদিও প্রবাসী বন্ধুরা টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রমাণ করেছেন প্রবাসীদের নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু নেত্রকোনো জেলায় যে কজনের করোনা টেস্ট পজিটিভ হয়েছে তারা প্রায় সবাই এসেছেন নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে। এ বিষয়ে আমরা সবাই সর্বদা সতর্ক ছিলাম। যখন শুনেছি নারায়ণগঞ্জ অথবা গাজীপুর অথবা অন্য কোনো স্থান থেকে কেউ একজন এসেছেন গ্রামের বাড়িতে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছুটে গিয়েছি আগত ব্যক্তিটির সব খোঁজখবর নিতে। এ ব্যক্তিটির করোনা টেস্ট করানো, কোয়ারেন্টাইনে রাখার মতো বিষয়গুলো খুব সহজ ছিল না। আর এ কঠিন বিষয়টিকে সহজ করেছেন ইউএনও এবং ওসি যৌথভাবে। দিনের পর দিন এ কঠিন কাজটি করেছেন তারা আন্তরিকতার সঙ্গে। আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজটি করতে গিয়েই আজ তারা নিজেরাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

 

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র/হাসপাতালগুলোর অবস্থা খুব ভালো বলা চলে না। তবু ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি, একেবারেই প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো করার মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের উপস্থিতি এবং সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ওষুধের সহজলভ্যতা চিকিৎসাব্যবস্থাকে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে। এতসব কিছুর পরও করোনার মতো মরণব্যাধি মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বসহ পৃথিবীর মানুষ যখন হিমশিম খাচ্ছেন, তখন বাংলাদেশের বিরাজমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্য থেকে করোনা মোকাবিলা করা খুব সহজ ছিল না। তবু আমার এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সব সীমাবদ্ধতা জয় করে কাজ করে যাচ্ছেন ২৪ ঘণ্টা। এখানকার স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা, নিয়মানুবর্তিতা দেশপ্রেম সর্বোপরি কর্তব্যনিষ্ঠা আমাকে উৎসাহিত করেছে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসিমুখে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ সব উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে সরকারিভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে। তার পরও উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি হিসেবে আমিও যতটুকু পেরেছি স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে থেকে সহায়তা দিয়েছি। করোনায় স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হলো নমুনা সংগ্রহ। এ নমুনা সংগ্রহের অভিজ্ঞতা আমাদের দেশে কারও ছিল না, বিষয়টিও নতুন। ফলে শুরুতেই হোঁচট খেতে হয়েছে সবাইকে। এরপর কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে বসে স্বাস্থ্যকর্মীরা যখন ধীরে ধীরে নমুনা সংগ্রহে দক্ষ হয়ে উঠতে লাগলেন, তখনই দ্রুত করোনার বিস্তার হলো সারা দেশে। জেলায় জেলায় বা মফস্বল শহরে নমুনা সংগ্রহকারীদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা রীতিমতো অসাধ্য হয়ে পড়ল। তাত্ত্বিকভাবে বা অনলাইনে একটা প্রাথমিক ধারণা দিয়ে নমুনা সংগ্রহে নামিয়ে দেওয়া হলো সারা দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের। শুরুতে অজ্ঞতা, অদক্ষতা এবং করোনাভীতি নমুনা সংগ্রহের কাজটিকে বেশ কঠিন করে তুলেছিল। এখন অবশ্য বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সকালে নমুনা সংগ্রহের কাজ চলে। এরপর নমুনাসহ নাম পৌঁছে দেওয়া হয় নেত্রকোনোা জেলা শহরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। সিভিল সার্জন কার্যালয় উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত ল্যাবরেটরিতে পাঠায় টেস্টের জন্য। টেস্ট শেষে ফলাফল পেতে চার-পাঁচ দিন লেগে যায়। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে আমার কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলায় কর্মরত কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে কর্মরত সবাই অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে এ কাজটুকু করে যাচ্ছেন। নমুনা টেস্ট করে পজিটিভ চিহ্নিত হলে তখন তা সামাল দেওয়া প্রশাসনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। ডাক্তার নিজেই স্পটে উপস্থিত হয়ে রোগীকে আইসোলেশনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যান। সঙ্গে ওষুধ ও পথ্যের একটি তালিকা দিয়ে যান করোনা আক্রান্তকে। এরপর আসেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তারা আক্রান্তের বাড়িটিকে লাল পতাকা টানিয়ে চিহ্নিত করেন, প্রতিবেশীরা যেন এ বাড়ি থেকে সতর্ক থাকতে পারেন। স্থানীয় পুলিশের একজন সদস্য, গ্রামপুলিশ আনসার মহিলা পুলিশ পালাক্রমে বাড়িটি পাহারা দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাবার, কাঁচাবাজারসহ প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করেন। এলাকাবাসী দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছেন ঐক্যবদ্ধভাবে। এলাকার নেতা-কর্মী এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করছেন সর্বগ্রাসী করোনাকে। এ ক্ষেত্রে দলীয় সংকীর্ণতা কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি।

 

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান, কেন্দুয়া-আটপাড়ার এএসপি সার্কেল মাহমুদুল হাসান, কেন্দুয়ার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি রাশেদুজ্জামান, কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল কাদির ভুঞা ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক ভুঞা এবং আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা, আটপাড়ার অফিসার ইনচার্জ ওসি আলী হোসেন, আটপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী খায়রুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রানা আরজু- এরাই আমার নির্বাচনী এলাকার ফ্রন্টলাইনার ফাইটার্স। এদের ঐক্যবদ্ধ ও সাহসী পদক্ষেপ এলাকাবাসীর পাশে থেকে কাজ করতে সহযোগিতা করেছে আমাকে। করোনার হিংস্র থাবা থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এনে অর্থনীতিতে করোনার কী কী বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে তা তিনি চিহ্নিত করেছেন। আর অর্থনীতির এ ধকল সামাল দিতে ঘোষণা করেছেন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা। সারা দেশের চিত্রটা নিজ চোখে দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও কনফারেন্স করছেন জেলা শহরে কর্মরত দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষ সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে যেভাবে মোকাবিলা করছেন করোনাকে, তাতে নির্দ্বিধায় বলা চলে- জয় আমাদের সুনিশ্চিত।

 

লেখক: সংসদ সদস্য, নেত্রকোনা-৩। ইমেইল: ashimkumarukil@gmail.com