মৃত্যু ঝুঁকি উপেক্ষা করে মাঠে তৎপর তাঁরা

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

মৃত্যু ঝুঁকি উপেক্ষা করে মাঠে তৎপর তাঁরা

মাহফুজ শাকিল: করোনা মহামারিতে মৌলভীবাজরকে আগলে রেখেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। জাতির এই চরম ক্রান্তিকালে তাদের ভূমিকা অতুলনীয়। মানুষের পাশে দাঁড়ান মমতার হাত দিয়ে। যারা কখনোই চিন্তা করেন না নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা। এই কঠিন মৃত্যু ঝুঁকিকে উপেক্ষা করেই তারা তৎপর হয়ে চষে বেড়াচ্ছেন মাঠে ঘাটে।

 

সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক লকডাউন কার্যকর, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, অসহায়, দুঃস্থ ও কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দেয়া, গণসচেতনতা সৃষ্টি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান, দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তার জন্য তালিকা তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে এবং প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা তালিকা প্রস্তুতকরণের মূল নেতৃত্বে আছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আগত উপহার সামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন-কাফনসহ সৎকারের সব ধরনের কাজে যুক্ত থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

 

মানবতার এমনই এক কঠিন দুঃসময়ে সবাই মুখ থুবড়ে নিলেও বিবেকের টানে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে আজ এগিয়ে এসেছেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ডিসি, এডিসি, ইউএনও, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, এ্যাসিল্যান্ড অতি মানবীয় গুণাবলীর কিছু মানুষ সেচ্ছায় আর্ত মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন এবং সরকারের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে তারা বদ্ধ পরিকর। প্রশাসনের এ মানুষগুলোর ঘুম নেই। সহায়তা নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন করোনাক্রান্তের পাশে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭ উপজেলার মধ্যে ছয়টি উপজেলায় ইউএনও হিসেবে এখন পুরুষ আছেন। এক জন আছেন নারী ইউএনও। আর ৭ উপজেলায় এ্যাসিল্যান্ড আছেন ৭ জন। চারটি উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থাৎ এ্যাসিল্যান্ড হিসেবে আছেন নারী।

 

ইউএনওদের মধ্যে জুড়ীতে অসীম চন্দ্র বণিক, বড়লেখায় শামীম আল ইমরান, মৌলভীবাজার সদরে মো. শরীফুল ইসলাম, কুলাউড়ায় এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, শ্রীমঙ্গলে মো. নজরুল ইসলাম, কমলগঞ্জে মো. আশেকুল হক, এবং রাজনগরে প্রিয়াংকা পাল কর্তব্যরত আছেন।

 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে শ্রীমঙ্গলে আছেন মাহমুদুর রহমান মামুন, মৌলভীবাজার সদরে সুনজিত কুমার চন্দ্র, কুলাউড়ায় নাজরাতুন নাঈম, বড়লেখায় নূসরাত লায়লা নীড়া, রাজনগরে উর্মি রায় ও কমলগঞ্জে নাসরিন চৌধুরী দায়িত্বরত রয়েছেন।

 

মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তারা ছাড়াও জেলা প্রশাসনে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দুজন নারী নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মলিকা দে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানা।

 

তাঁরা ছাড়াও জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মরিয়ম জাহান, সানজিদা রহমান, মৌসুমী আক্তার, আসমা উল হ্সনা, হুমায়রা সুলতানা ও শামীমা আফরোজ মারলিজ কর্মরত আছেন। মৌলভীবাজারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে ১৪ জন নারী কর্মকর্তা এখন বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

 

উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও ও এ্যাসিল্যান্ডগণ ঠিকমত কাজ করছেন কিনা সে বিষয়টি জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীনের তত্ত্বাবধানে সার্বিক দেখভাল করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মলিকা দে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানা। তাঁরা তিনজনই সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মপরিধি তদারকি করছেন।

 

দেশের এমন কঠিন দূর্যোগের মুহুর্তে মাঠ প্রশাসনের এই কর্মকর্তারা তাদের কর্মযজ্ঞ দিয়ে মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে এই জেলায় বেশ সুনাম কুঁড়িয়েছেন।

 

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন বলেন, কাজ করতে গিয়ে আসলে নারী কিংবা পুরুষ সেটা মূখ্য বিষয় নয়, মূল বিষয় হলো দায়িত্ব পালনে তাঁরা আন্তরিক ও দক্ষ কি না। জেলায় এডিসি, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও ও এ্যাসিল্যান্ডরা নিষ্ঠা এবং দক্ষতার সঙ্গে করোনাকালে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে দায়িত্ব পালন করছেন। যেমনটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের কাজে আমি শতভাগ সন্তুষ্ট।