জুড়ী ও কুলাউড়ায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

জুড়ী ও কুলাউড়ায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল

বিশেষ প্রতিবেদক: জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই গ্রাহকদের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হচ্ছে। বিলে উল্লেখ করা রিডিংয়ের সঙ্গে মিটারের কোনো মিল থাকে না। এ নিয়ে গ্রাহকেরা দীর্ঘ দিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

 

জুড়ীর সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম গত ২২ জুন এ প্রতিবেদককে বলেন, তাঁদের মিটারে রিডিং রয়েছে ৭ হাজার ৬৯ ইউনিট। অথচ, বিলে তা ৮ হাজার ৫৭০ ইউনিট উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ৩০০ ইউনিটের বিল এসেছে। হাজেরা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘প্রত্যেক মাসেই মিটারর লগে বিলর মিল থাকে না। বিলে রিডিং বেশি আসে। বিদ্যুৎ অফিসে গিয়া অভিযোগ জানাইলে পরের মাসে ঠিক করি দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু, আর ঠিক হয় না।’

 

গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুরের জালাল উদ্দিনের মিটারে ২২ জুন রিডিং ছিল ১ হাজার ১৫৬ ইউনিট। সেখানে বিলে ৩ হাজার ৭২০ ইউনিট উল্লেখ করা। রিডিং দ্বিগুণেরও বেশি। জালাল বলেন, ‘কেউ গিয়ে মিটার দেখে না। মনগড়া বিল তৈরি করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এ সমস্যা চলছে। অথচ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

 

পিডিবির সূত্র জানায়, কুলাউড়া পৌর শহরের চাতলগাঁও এলাকায় অবস্থিত তাদের বিক্রয়, বিতরণ ও সরবরাহ বিভাগ থেকে বিভিন্ন ফিডার লাইনের মাধ্যমে কুলাউড়াসহ পাশের জুড়ী উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কুলাউড়ায় প্রায় ৩০ ও জুড়ীতে প্রায় ৯ হাজার গ্রাহক রয়েছেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিডিবির এক প্রকৌশলী বলেন, দুটি কারণে এ সমস্যা ঘটে। প্রথমত, রিডাররা নিয়মিত বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মিটার দেখেন না। দ্বিতীয়ত, সিস্টেম লস পূরণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মিটারের হিসাবনম্বরের বিপরীতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিট বাড়িয়ে দেয়।

 

পিডিবির কুলাউড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শামস ই আরেফিন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে মিটার রিডাররা কয়েক মাস ধরে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মিটার দেখতে পারছেন না। ফলে অনেকের মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের অসামঞ্জস্য ঘটেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিল সংশোধন করে দেওয়া হয়। সিস্টেম লসের প্রভাব গ্রাহকদের ওপর পড়ে না বলে তিনি দাবি করেন।

 

জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/বিপি/কেপি