বড়লেখায় সংঘর্ষের ঘটনার মামলার প্রধান আসামি সাইদুল গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

বড়লেখায় সংঘর্ষের ঘটনার মামলার প্রধান আসামি সাইদুল গ্রেপ্তার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পলিথিন আটকের জের ধরে দুইপক্ষের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় দায়ের করা দু’টি মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (০৮ জুলাই) রাত সাড়ে নয়টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পলিথিন আটকের জের ধরে গত ২ জুলাই সকালে বড়লেখা পৌরশহরের উত্তর বাজার এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শামীম আহমদ বাদী হয়ে ১৮ জনের ও জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৫ জনের নামোল্লেখ করে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। দুটি মামলায় শাহজালাল শপিং সিটির মালিক সাইদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার পরই পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে সাইদুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়।

 

বুধবার পুলিশ খবর পায় আসামি সাইদুল ইসলাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় অবস্থান করেছেন। খবর পেয়ে বুধবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) গোলাম দস্তগির ও বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।

 

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক বুধবার দিবাগত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় দায়ের করা দুটি মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই স্থানীয় প্রশাসন পৌর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মজুদ করা প্রায় ৭০ মণ নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করে। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামের পারিবারিক মালিকানধীন রেলওয়ে স্টেশন রোডস্থ শাহজালাল শপিং সিটি থেকেও পলিথিন উদ্ধার করে প্রশাসন। এ ঘটনার পর থেকে আসামিরা শামীম আহমদকে (মামলার বাদী) সন্দেহ করছিলেন। তাদের ধারণা শামীম আহমদ পুলিশকে তথ্য দিয়ে পলিথিনগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন। এ আক্রোশে গত ০২ জুলাই সকালে শহরের উত্তর বাজার এলাকায় শামীম আহমদকে কুপিয়ে জখম করে রাস্তায় ফেলে যায়।

 

এতে শামীম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে থাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শামীম আহমদের উপর হামলার খবর পেয়ে তার ভাই পৌর যুবলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে বেলা ১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে জসিম উদ্দিনসহ প্রায় ১২জন আহত হন। জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় পর পর তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনেছেন তারা। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/জেপি/