জলঢুপি : সিলেটের নামকরা আনারস

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

জলঢুপি : সিলেটের নামকরা আনারস

সাইফুল্লাহ হাসান: উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলায় সারি সারি আনারসের গাছ। কাটাযুক্ত গাছের মধ্যে এমনই রসালো ফল আনারসের জন্ম। চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে এবার আনারসের ভালো ফলন হয়েছে। পুরো মৌলভীবাজার জেলার টিলাজুড়ে এখন সুস্বাদু ও রসালো আনারস। আবওহাওয়া অনূকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে আনারসের ফলন হওয়াতে খুশি চাষীরা। এতে চাষি ও ব্যবসায়িরা লাভের আশা করছেন।

 

বৃহত্তর সিলেটের নামকরা আনারস ‘জলঢুপি’। একসময় মৌলভীবাজার জেলায় বেশ চাষ হতো এই আনারসটি। সিলেটের বিয়ানীবাজারের জলঢুপ গ্রামের নামেই আনারসের নামকরণ। সময়ের পরিক্রমায় এই আনারসটি হারতে বসেছে। তার জায়গা দখল করে নিচ্ছে হানি কুইন জাতের আনারস।

 

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, জলঢুপি আনারস আকারে ছোট ও গোলাকার। খুবই মিষ্টি হয়। পরিপক্ব হলে আনারসের রং লালচে এবং হালকা ধূসর হয়। অন্যদিকে হানি কুইন আনারসও জলঢুপের মতো। তবে আকারে কিছু বড় ও লম্বাকৃতির হয়। এ আনারসের চোখ তীক্ষ্ণ হয়। তবে দুটিরই স্বাদ অনেকটা কাছাকাছি। আনারসগুলো দোআশ ও বেলে দোআশ মাটির উপযুক্ত। চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় হচ্ছে অক্টোবর – নভেম্বর মাস। আর জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ফল সংগ্রহের সময়।

 

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর জেলায় ১২০১ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও শ্রীমঙ্গলে ৪০৯ হেক্টর, কুলাউড়ায় ৫৫ হেক্টর, রাজনগরে ৪০ হেক্টর , বড়লেখায় ৩২ হেক্টর, জুড়ীতে ৮৮ হেক্টর ও সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর জমিতে।

 

এবছর জেলায় আনারসের উৎপাদন হয়েছে মোট ২০হাজার ৪শত ১৭ মেট্টিক টন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী কমলগঞ্জ উপজেলায় উৎপাদন হয়েছে ৯হাজার ১শত ৬ মেট্টিক টন। শ্রীমঙ্গলে ৭হাজার ১শত ৫৮, কুলাউড়ায় ৯৬২, রাজনগরে ৬৭০, বড়লেখায় ৫১২, জুড়ীতে ১৫৪০ ও সদর উপজেলায় ৫৫৯ মেট্টিক টন।

 

সরেজমিনে শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকায় গেলে কথা হয় চাষী মোঃ ইদ্রিস মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, আমি দুই একর জায়গায় আনারসের বাগান করেছি। আমার চারা আছে প্রায় ত্রিশ হাজার। এবার আমার বাগানে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আনারস বিক্রি করেছি চার লাখ টাকার মতো। আনারস বাগানে বারোমাস কিন্তু কাজ লাগেনা। সর্বোচ্চ তিন থেকে চার মাস কাজ করলে হয়। যখন ফল আসে তখন কাজ লাগে। দশ থেকে পনেরো জন শ্রমিক এই তিন চার মাস নিয়মিত কাজ করেন।

 

তিনি বলেন, আমি বেশিরভাগ আনারস আড়তে বিক্রি করি। এবার ৪০/৪৫ টাকা পিছ বিক্রি করেছি। আর বড়গুলো ৬০/ ৬৫ টাকায় আবার একশত আনারস ৪ থেকে সাড়ে ৪ হজার টাকায়। আমার বাগানে বেশি হানি কুইন জাতের আনারস রয়েছে।

 

নাছির মিয়া নামের আরেক চাষী জানান, তিনি ৭ একর জায়গায় আনারস চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এবার বানরে আমার বেশ আনারস খেয়ে ফেলেছে। তারপরও দেড় দু’লাখ টাকার আনারস বিক্রি করেছি। আগে আমার বাগানে জলঢুপ আনারস বেশি ছিলো। এখন হানি কুইন জাতটাই বেশি। জলঢুপ থেকে হানি কুইনের স্বাদ অন্যরকম।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুর বারী বলেন, জেলায় গতবারের চেয়ে ভালো ফলন হয়েছে আনারসের। হানি কুইন, জয়ান্ট কিউ, ক্যালেন্ডার, জলঢুপ আনারস চাষ হয়। তার মধ্যে জেলায় সবচেয়ে বেশী চাষ হয় হানি কুইন। তিনি বলেন, গতবারের চেয়ে এবছর এক হেক্টর জমিতে আনারস বেশী চাষ হয়েছে।