লেবুর জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠছে চায়ের রাজধানী

প্রকাশিত: ২:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

লেবুর জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠছে চায়ের রাজধানী
সাইফুল্লাহ হাসান: চারিদিকে উঁচু নিচু পাহাড়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে লেবু গাছ। গাছে গাছে ঝুলছে রসালো লেবু। এ চিত্র লেবুর জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠা চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের। এখানকার লেবুর সুনাম ছড়িয়ে আছে সারাদেশে।
জেলার প্রতিটি উপজেলায় এই লেবু বানিজ্যিকভাবে আবাদ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেবু হয় শ্রীমঙ্গলে। অনেকে আবার বানিজ্যিকভাবে চাষ না করলেও স্থানীয়ভাবে সবার বাড়ির আনাচে-কানাচে দু’চারটি গাছ লাগান। যাতে করে নিজেদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর জেলায় ১৬৮০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শ্রীমঙ্গলে উপজেলায় ১২৫০ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও কমলগঞ্জে ১৪০ হেক্টর, বড়লেখায় ১০০ হেক্টর, কুলাউড়ায় ৭৫ হেক্টর , জুড়ীতে ৪৭ হেক্টর, সদরে ৩৮ হেক্টর ও রাজানগর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে।
বিজ্ঞাপন

 

এবছর জেলায় লেবুর উৎপাদন হয়েছে মোট ২৭ হাজার ৭শত ২০ মেট্টিক টন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী শ্রীমঙ্গল উপজেলায় উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার ৬ শত ২৫ মেট্টিক টন। কমলগঞ্জে ২ হাজার ৩ শত ১০, বড়লেখায় ১ হাজার ৬ শত ৫০, কুলাউড়ায় ১ হাজার ২ শত ৩৭, জুড়ীতে ৭ শত ৭৬, সদরে ৬ শত ২৭ ও রাজনগর উপজেলায় ৪ শত ৯৫ মেট্টিক টন।

 

 

সরেজমিনে শ্রীমঙ্গলের মোহাজেরাবাদ এলাকায় গেলে দেখা যায়, বাগানের শ্রমিকরা লেবু গাছ থেকে ফল নামিয়ে আনছেন। নির্দিষ্ট সাইজের লেবু আলাদা আলাদা করে রাখছেন তারা। পরে জীপ, টেম্পু ও ঠেলা গাড়ি যোগে শ্রীমঙ্গলের বাজারে আসতে থাকে কাগজি লেবু। যা দুপুরের মধ্যে আড়তে চলে যায়। এখান থেকে প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমাণের কাগজি লেবু নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

 

কথা হায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোহাজেরাবাদ এলাকার ইদ্রিস মিয়ার সাথে। এবার তার ৩ একর জায়গায় লেবু চাষ হয়েছে। তিনি বলেন, গত একমাস থেকে দাম কিছুটা কম। এক মাস আগে ৪ থেকে ৫ দামে লেবু বিক্রি করেছি। এবছর এ পর্যন্ত ৩ লক্ষ টাকার লেবু বিক্রি করেছি, খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। প্রতিটি লেবু ১ থেকে দেড় টাকা বিক্রি করছি। একটি গাছে পুরো বছরে এক হাজারের বেশি লেবু ধরে।

 

একই এলাকার নাছির মিয়া বলেন, আল্লায় এবার দিছে দেয়ার মতো। আমার বাগানে লেবু ভালো আসছে। এইবার লেবু গাছে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি ফল আসছে। তবে বাজার কিছুটা কম।

 

তিনি বলেন কাঁচামালের বাজারতো, সেজন্য অনেক সময় ৮০০ লেবু ৮০০ টাকা আবার ৮০০ লেবু বারোশো টাকা বিক্রি করতে হয়। প্রতিবছর আমার খরচ বাদে লেবু থেকে দেড় লক্ষ টাকা আয় হয়। করোনা ভাইরাসের কারনে গত কয়েকমাস থেকে দাম কিছুটা কম পাচ্ছি।

 

আরেক চাষী মোঃ সত্তার মিয়া বলেন, আমার লেবু আছে ৮ একার জায়গায়। এবার ফলন ভালো হয়েছে। বাগানে বেশি আছে শরবতি লেবু। নিয়মিত কাজ করেন ১০ জন লোক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুর বারী বলেন, জেলায় এবছর লেবুর ভালো ফলন হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার ৪৭ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ বেশি হয়েছে। জেলায় বেশি চাষ হয় কাগজি লেবু। তাছাড়া রয়েছে জাড়া লেবু, চায়না লেবু, আদা লেবু।