সিলেটের সর্বোচ্চ টিলা জুড়ীতে!

প্রকাশিত: ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

সিলেটের সর্বোচ্চ টিলা জুড়ীতে!

মো. আফিফুর রহমান: পাহাড় মানেই এক গুচ্ছ মায়া, সুখময় বেদনার সুন্দর হাহাকার। রুপের রানী খ্যাত সিলেটের সৌন্দর্য পেখম মেলে বসে সব ঋতুতেই।

 

প্রকৃতির নিবিড় আলিঙ্গনে বাঁধা রুপের রানী সিলেটের পরতে পরতে রয়েছে বৈচিত্র্য। এখানকার অরণ্য, ঝর্ণা, চা-বাগান, পাথর-জলের বিছানা, পাহাড়ি প্রকৃতির রুপের আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে ভীষণ প্রিয়। যে রুপে মুগ্ধ হয় পর্যটকরা, সে রুপে রয়েছে প্রকৃতির অলঙ্কার সমৃদ্ধ নানাকিছু। সিলেট অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য রুপের পসরা। তেমনই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের কাছে সৌন্দর্যের আরেক নাম কালাপাহাড়। যা সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ পাহাড় হিসেবে খ্যাত।

 

সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে পাহাড়টির উচ্চতা ১ হাজার ১০০ফুট। ২০১৫ সালের নভেম্বরে বিডি এক্সপ্লোরার নামক দেশের একদল অভিযাত্রী এই চূড়াটি খুঁজে পায়। গারমিন চালিত জিপিএস দিয়ে সর্বোচ্চ বিন্দু ১ হাজার ৯৮ ফুট (সমুদ্র স্তর থেকে) পরিমাপ করেন তাঁরা।

 

বৃহত্তর সিলেটের সর্বোচ্চ এই বিন্দু বা চূড়ার অবস্থান হলো জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের রাজকী চা-বাগানে। রাজকী টি এস্টেট থেকে মাত্র দুই ঘন্টা হেঁটে যাওয়ার পথ। পাহাড়ী পথ ও ঝিরি দিয়ে ট্রেকিং করে যেতে হয় সেখানে। শহর থেকে বহুদূরে নেটওয়ার্কের অনুপস্থিতিতে কোলাহলহীন পরিবেশে প্রতিটা মুহুর্ত রোমাঞ্চকর মনে হবে জায়গাটিতে। অপরদিকে, কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের আজগরাবাদ চা-বাগানের সাথে পাহাড়টি সংযুক্ত। উইকিপিডিয়া তথ্যমতে, মূল পরিসীমা লংলা/হাড়ারগজ পাহাড়কে ধরা হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

কুলাউড়ার সাথে দেশের অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় রবিরবাজার আজগরাবাদ চা-বাগানের বেগুনছড়া পুঞ্জি হয়ে পাহাড়টিতে আরোহন করে অনেকে। ফিরতি পথে ফুলতলা রাজকী চা-বাগান হয়ে দীর্ঘ পথ ট্রেকিং করে ফিরে যান তাঁরা। এক্সট্রিম অ্যাডভেঞ্চারস এর জন্য পাহাড়টিকে আদর্শ মনে করেন অনেকে।

 

কালাপাহাড় পর্বতশ্রেণীকে স্থানীয় ভাষায় লংলা পাহাড়শ্রেণী নামে ডাকা হয়। কালাপাহাড় হচ্ছে সর্বোচ্চ চূড়ার স্থানীয় নাম। বাংলাদেশ জিওগ্রাফিক সোসাইটির মতে, এই পাহাড়টি হাড়ারগজ পাহাড় নামেও পরিচিত।

 

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় অবস্থান করা এই পাহাড়ের ৬০ ভাগ বাংলাদেশে পড়েছে। বাকি অংশ ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় অবস্থিত। ভারতে পাহাড়টির বাকি অংশ রঘুনন্দন পাহাড় নামে পরিচিত। সেখানকার বিখ্যাত প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থান ঊনকোটি এই পাহাড়টির পাদদেশে অবস্থিত।

 

অপার্থিব সৌন্দর্যের এ পাহাড় যে কাউকে বিস্মিত করবেই। সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশে মেঘের মিতালি ঘটে কালাপাহাড়ে। চারিদিকে ঝিঁঝি পোকার ডাক, প্রজাপতির স্বাধীন ছুটে চলা, বুনোপোকাদের ব্যস্ততা, পাতাঝরা গাছের উত্তোলিত আহ্বান, সবুজে ঘেরা পুরো পাহাড়। অপার সৌন্দর্যে হারাতে আর কী লাগে! এখানে বাতাস আর নীরবতার খেলা চলে সর্বক্ষণ। এ সৌন্দর্যের কথা তেমন একটা জানে না কেউ।ঠিক তেমনই অনেকের কাছে অপরিচিত রয়ে গেছে এ পাহাড়ের কথা।

 

পাহাড়টিকে তুলে ধরতে প্রচারণা দরকার।প্রশাসনিকভাবে পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়ালে এটিও বান্দরবানের মতো আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হতে পারে।আর এলাকাবাসী খুঁজে পাবে তার মধ্যে এক অপার সম্ভাবনা।