ঈদের সেকাল-একাল

প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

ঈদের সেকাল-একাল

রায়হানুল ইসলাম: ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, উৎসব ও ঘুরে বেড়ানো। ঈদ-উল আয্হায় তাকওয়া অর্জনে কেউ কোরবানি করবে গরু, কেউবা খাসি। মুদ্রার ওপিঠে ধরিত্রী আজ অশান্ত, করোনা নামক ঘোর অমানিশার অন্ধকারের চাঁদরে ঢাঁকা। দূরত্ব যতই হোক কাছেই থাকি নামক স্লোগান বদলে দিচ্ছে সময়। এখন যতো কাছেই থাকিনা কেনো যেন নিরাপদ শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখি।চারদিকে কান্না, মৃত্যুর মিছিল আর হাহাকার।তবু আশায় বুক বাঁধি, সুস্থ হোক পৃথিবী।

 

স্বাভাবিকভাবেই কোরবানি ঈদ সামনে আসতেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। রোজার ঈদের মতো কেনাকাটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পশুর হাঁটে দৌড়ঝাপ। আর অনলাইনে গরুর ছবি দেখে গরু কেনা ভেবেছি কি কখনো! স্বাস্থ্যবিধি মান্য করে অনন্য ঈদ এবার ভিন্নভাবে পালন করতেই হবে। শিশুদের ঈদের আমেজ যেনো সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। নতুন কাপড়, নতুন জুতা, খেলনা কিনতে যাওয়া, মামা খালাদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া। তার উপরে সবার কাছ থেকে ঈদি নিয়ে অংকটা যেনো কোরবানির গরুর মতোই মোটাতাজা হয়!

 

অদৃশ্য একটা শিকলে যেনো বাঁধা পড়েছে কচিকাঁচারাও। দিনমান এক করে কেনাকাটা,বন্ধু-স্বজনদের বাড়ি ঘুড়তে যাওয়া, দেশের বাড়ি যাওয়া, দেশে বিদেশে ছুটি কাটানো সবকিছুতেই করোনার শাণিত চোখ পড়েছে। সমাজের অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবার গুলোতে হয়তো উদযাপিত হবে ঈদের ঘরোয়া উৎসব। আনন্দ আয়োজনের স্বাভাবিক রূপও হয়তো দেখা যাবে কোথাও কোথাও। কিছু সব ছাপিয়ে কানে বাজবে বেতন না পাওয়া, বোনাস না পাওয়া চাকুরিজীবি, গার্মেন্টসকর্মী, কর্মহীন শ্রমিক, দিন মজুর আর নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষের দীর্ঘশ্বাস এবং খাঁচার পাখির মতো ঘরবন্দী শিক্ষার্থীদের চাপা কান্না।

 

তাই বলে কি ঈদ থেমে থাকবে! ঈদের আনন্দ ভাগ করে পালন করে নিতে হবে ডিজিটাল নামের ভার্চুয়াল ঈদ আনন্দ। গরীব দুঃখী যারা অনেকদিন ধরে কাজ বঞ্চিত তাদের পাশে দাড়াতে হবে।কোরবানির গোসত বন্টন থেকে শুরু করে প্রয়োজনে ঈদ উপহার বাড়িতে পৌছে দেয়া যেতে পারে। নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত নামধারী যারা এই সময়ে কইতে না পারা, সইতে না পারার মাঝে তাদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চবিত্তরা খোঁজে নিতে পারেন ঈদানন্দ।

 

সীমিত পরিসরে জনসমাগম না করে কোরবানি করার পর পরিবারকে নিয়ে খাওয়াদাওয়া, আনন্দ, কচিকাঁচাদের সময় দেওয়া, ঈদি নামে ছোট্ট  নতুন লাল নোটটি দিতে পারে তাদের পরমানন্দ। গরীব-দুঃখীদের মধ্যে গোসত বিতরণ হোক যথাবিহিত দুরত্ব বজায় রেখেই।

 

যেহেতু ঈদে অন্যের বাড়িতে যাওয়া যাবে না, ভাইবোনেরা বা বন্ধুরা একটা জুম মিটিং অথবা গুগল মিটের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে নিতে পারেন যেখানে সবাই দূরে থেকেও কাছে থাকার অনুভূতি পাবে। ডিজিটাল এই যুগে আপ্যায়ন, গল্প, ডেটিং, শুভেচ্ছা ও উপহার বিনিময় সবই চলতে পারে ভার্চুয়ালি। বন্ধু আড্ডা হয়ে যাক চ্যাটিং আর টকিং এ। বন্ধুর বাড়ি গিয়ে করোনা ছড়ানোর আশংকায় পড়ার কি দরকার।

 

শিক্ষার্থীদের ছুটির কথা নাইবা বললাম, পরবর্তীতে তারা আর ছুটি চাইবে কিনা সন্দেহ! আরো এক মাস! ঈদের ছুটির হিসাব কষার সেই উত্তেজনা নেই বললেই চলে কারন দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে আজ ধরণী কাজ চায়, চলতে চায়, এগিয়ে যেতে চায়।

 

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে আমাদের মাঝ থেকে সকল প্রকার অশুভ ও বিপদ-আপদ দূর হয়ে যাক। সবার মাঝে ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন রচিত হোক।সুস্থতায় ফিরে আসো হে ধরিত্রী। সকলকে ঈদ মোবারক।

 

লেখক: প্রভাষক (ইংরেজি), উইমেন্স মডেল কলেজ, সিলেট।