একজন রাষ্ট্রনায়ক এবং একটি অখন্ড বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

একজন রাষ্ট্রনায়ক এবং একটি অখন্ড বাংলাদেশ

মো. মিফতাহ আহমেদ রিটন: ১৫ আগষ্ট ইতিহাসের কলংকিত অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট। বঙ্গবন্ধুর বিকল্প বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সৃষ্টি হননি, কোনদিন হবেনও না।বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা,স্বাধীনতার স্থপতি।বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর পরিচর্যায় রচিত হয়েছে পবিত্র সংবিধান। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণতন্ত্র।

 

স্বাধীনতার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের ঋণ পরিশোধ ও সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সংস্কার ও অর্থনৈতিক মুক্তির কাজে হাত দিয়েছিলেন। তখন ১৯৭১ এর পরাজিত শত্রু ও দেশী-বিদেশি চক্রান্তকারীরা ১৫ আগষ্টের প্রথম প্রহরে হত্যা করে জাতির জনক ও তাঁর পরিবারকে। স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা জাতি, স্তব্ধ হয়েছিলেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় মুজিব হত্যার অনেক বছর পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান যখন ইতিহাসের কিংবদন্তি নেতা নেলসন মেন্ডেলার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন তখন মেন্ডেলা বলেন, “Why You Killed Sheikh Mujib”। কালোদের দেশে তখন রোদ ঝলমল করছিল। নিস্তব্ধ পরিবেশে নিরুত্তর তখন ওয়ালিউর রহমান। বঙ্গবন্ধু খুব উদার মানুষ ছিলেন। বঞ্চিত-শোষিত মানুষের পক্ষ নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন মানুষের অধিকার। মার্টিন লুথার কিং এর মত বঙ্গবন্ধুরও একটি স্বপ্ন ছিল। একটি সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তিনি চিরদিন লালন করেছিলেন।

 

ঘাতকরা তাকে হত্যা করেছিল সেই স্বপ্নকে, বাংলার স্বাধীনতাকে, বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করার জন্য। বাংলাদেশ থেকে তারা মুছে ফেলতে চাইল গুড গভর্নেন্স, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতন্ত্র এই শব্দগুলো। বাঙালি জাতীয়তাবাদ এক মহাকাব্য আর সেই মহাকাব্যের মহানায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামোর অধীনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অভ্যুত্থান ঘটান বঙ্গবন্ধু। এর পরিণতিতে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। বাঙালি জাতীয়তাবাদের অভ্যুত্থান ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর মতো সাহস আর কারোর মধ্যে দেখা যায়নি। ফাঁসির মঞ্চ থেকে তিনি একাধিকবার ফিরে এসেছেন, আপোস করেননি। আর সেই স্বাধীনতার শক্তি আর বাঙালি জাতীয়তাবোধের চেতনাকে লালন করে স্বাধীনতার এতো বছর পরেও আমরা আমাদের স্বপ্নপূরণ করতে পারিনি।

 

স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ২৩ বছর অনবরত শত নির্যাতন, জেল জুলুম অসংখ্যবার কারাবরণ করেছেন। তিনিই সকল বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন। অকুতোভয় দেশপ্রেমিক স্বাধীনতার মহান স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির প্রাণপুরুষ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগনের নেতা এবং তাদের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাকে দেওয়া বঙ্গবন্ধু খেতাবে দেশের মানুষের প্রতি এই দেশপ্রেমিক নেতার গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়।বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন ও লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতা। দীর্ঘ ২৩ বছর রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয়। বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্থপতি এবং স্বপ্নস্রষ্টা। আসুন বঙ্গবন্ধু কে সকল রাজনীতিক বিতর্কের উর্ধ্বে রাখি।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, জুড়ীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।