পর্যটকদের নজর কাড়ছে জুড়ীর ‘রাতারগুল’

প্রকাশিত: ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

পর্যটকদের নজর কাড়ছে জুড়ীর ‘রাতারগুল’

সাইফুল্লাহ হাসান: উপরে নীল আকাশ। আর নিচে স্বচ্ছ জলরাশি। এরমধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে হিজল-করচসহ নানান জলজ গাছ। কখনো বা আকাশের কালো মেঘ হাওরের পানির সাথে মিলেমিশে হয় একাকার। হাওরের জলে বয়ে চলছে ছোটবড় নৌকা। এই দৃশ্যটি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার খাকটেখা এলাকার।

 

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বলতেই চোখে ভেসে উঠে সিলেট কথা। ঠিক রাতারগুলের মতো এই জায়গাটি। স্থানীয় জলার বন নামে পরিচিত। যা অবিকল রাতারগুলের অনুরুপ। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মন কেড়েছে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের। তাই তো প্রতিনিতই সেখানে ছুটে আসছেন তারা।

 

মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মৌলভীবাজার জেলার সবকটি পর্যটন স্পট বন্ধ রয়েছে। সেখানে পর্যটকদে নজর কাড়ছে রাতারগুল খ্যাত জুড়ীর খাকটেখা এলাকা।

 

এই এলাকার অনেক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত হিজল আর করচগাছ। গাছগুলো পানির মধ্যে ভাসমান। বর্ষার মৌসুমে দেখতে অবিকল সিলেটের রাতারগুলের মতো। এসব গাছগুলোতে বসে বিভিন্নরকমের পাখির মেলা। সকাল থেকে বিকেল এলাকাটি মুখরিত হয় পাখির কিচির-মিচিরে।

 

এদিকে মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় পর্যটকরা আসছেন এখানে। অনেকে এই জায়গাটি উপভোগ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পর্যটকরা এটির নাম দিয়েছেন জুড়ীর রাতারগুল।

 

যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের খাকটেখা নামক এলাকা হিজল করচগাছের অনিন্দ্য সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন আসছেন শত শত মানুষ। সরেজমিন সেখানে গেলে দেখা যায় রাস্তার পাশ ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে ইঞ্জিন চালিত ও ছোটবড় ডিংগি নৌকা। মাঝিরা অপেক্ষা করছেন পর্যটকদের। দূর দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা গাড়ি রেখে দিয়ে দর কষাকষি করে সেসব নৌকায় ওঠে হাওরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে আয়রোজগার বেড়েছে স্থানীয় নৌকা মাঝিদের। ফলে তাদের মুখেও হাসি ফুটেছে। দেখা যায় কেউ কেউ আবার গোসলের জন্য পানিতে লাফ দিচ্ছেন। সাথে দেখতে পাওয়া যায় জলজ অনেক উদ্ভিদ। বিশেষ করে পর্যটকরা আসেন শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে। সূর্যাস্তের সময় এলাকাটাকে করে তোলে আরও নয়নাভিরাম।

 

জুড়ীর রাতারগুলে ঘুরতে এসেছেন মেহেদী হাসান মারুফ। তিনি বলেন, রাতারগুল খ্যাত জুড়ীর এই এলাকাটি অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম প্রাকৃতিক একটি পরিবেশ। বর্ষার সময় এই এলাকাটি অনেকটা রাতারগুলের মতো। হাকালুকি হাওর থাকায় সূর্যাস্তটাও দারুণ উপভোগ কর যায়।

 

আরেক পর্যটক আরাফাত জামান। তিনি বলেন, স্রষ্টার অপরুপ সৌন্দর্যমন্ডিত এই জায়গাটি৷ নিরিবিলি হিজল – করচের মন মাতানো আঙ্গিনা। আমরা মোট ১২ জন এখানে এসেছিলাম ঘুরতে। ছোট্ট একটি ডিংগি নৌকা নিয়ে পরিবেশটা অবলোকন করেছি। এখানে ঝড় তুফানের কবল থেকে নিরাপদে থাকতে হয়।

 

ফুলতলা ইউনিয়নের মো. আফিফুর রহমান আফিফ ফেসবুকে এবং অনেকের কাছ থেকে শুনেছেন এই জায়গাটির কথা। তিনিও এসেছেন সেই দৃশ্য উপভোগ করতে। তিনি বলেন, যেখানে পর্যটকরা গেলে এর সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে বাধ্য। বর্ষাকালে এর আসল রুপ ফুটে উঠে।

 

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এলাকার এই অংশটিকে যদি তত্ত্বাবধানে করে পর্যটনবান্ধব এলাকা হিসেবে রুপায়ন করতে পারেন তাহলে এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতি বছর এই পর্যটন শিল্প থেকে সরকার বাড়তি আয় করতে পারবে বলে আমি মনে করি।

 

জুড়ী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাশ বলেন, হাকালুকি হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর। এখানে প্রতি বছরই প্রচুর পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। হাকালুকির একটা অংশ স্থানীয় খাকটেখা এলাকার জলার বন নামক জায়গাটি অনেকটা সিলেটের রাতারগুলের মতো। এখানেও প্রচুর পর্যটকদের সমাগম হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, এখানে যদি পর্যটকদের জন্য হোটেল- মোটেল এর ব্যবস্তা করা হয় তাহলে পর্যটকরা থাকতে পারবে। এবং ফরেস্টের জায়গা আছে সেখানে একটি রেস্ট হাউজও করা যেতে পারে। তাহলে ভ্রমণপিপাসু মানুষ হাকালুকি হাওরের সৌন্দর্য উপভোগে করতে পারবে।

 

ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজারগামী যে কোন বাসে চলে আসতে পারেন জুড়ীতে। ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালি ও আবদুল্লাপুর বাস টার্মিনাল থেকে বিয়ানীবাজারের বাসগুলো ছেড়ে যায়৷ বিআরটিসি, মামুন, রুপসি বাংলা, শ্যামলি ও এনা পরিবহনের বাস এ রুটে যাতায়াত করে। এগুলোর জুড়ী পর্যন্ত ভাড়া সাধারণত ৫০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। এরপর জুড়ী বাজার থেকে সিএনজি অটোরিকশায় খাকটেখায় যাওয়া যাবে। ভাড়া সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবেন কাঙ্খিত জায়গায়।