সাগরনাল পাহাড় : এবার চায় ইস্পাহানি

প্রকাশিত: 12:37 AM, August 25, 2020

সাগরনাল পাহাড় : এবার চায় ইস্পাহানি

বিশেষ প্রতিবেদক: জুড়ী উপজেলায় বিধি ভেঙে হাড়ারগজ সংরক্ষিত বনের দুই সহস্রাধিক একর জমি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নামে রেকর্ড হয়েছিল ২০১৩ সালে। পরে বন বিভাগ তাদের জমি ফিরে পেতে রেকর্ড সংশোধনের জন্য ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। এদিকে চলতি বছরের শুরুতে ওই জমি বন্দোবস্ত পেতে আরেকটি চা-বাগানের কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে। এ পরিস্থিতিতে ভূমি মন্ত্রণালয় মামলাটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপারিশমালা প্রণয়নে সম্প্রতি একটি বৈঠক ডাকে। তবে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

বন বিভাগ সূত্র জানায়, হাড়ারগজ সংরক্ষিত বনটি দীর্ঘদিন জরিপের বাইরে ছিল। ২০১০ সালে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ কাজ শুরু করে। জরিপ শেষে ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট হাড়ারগজ সংরক্ষিত বন মৌজায় জেলা প্রশাসকের নামে ২ হাজার ১৭৪ দশমিক ৩৫ একর জমি রেকর্ড হয় একই মৌজায় বনবিভাগের নামে রেকর্ড হয়। একই মৌজায় বন বিভাগের নামে রেকর্ড হয় ১১ হাজার ৬৮ দশমিক ৮৯ একর জমি। পরে ওই জমির গেজেটও সম্পন্ন হয়ে যায়। অথচ ২০০১ সালে প্রণীত ভূমি রেকর্ড ও নকশাবিষয়ক নির্দেশাবলিতে বলা হয় ১৯২৭ সালের বন আইনের ২০ ধারা বলে সংরক্ষিত বন হিসেবে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের অন্তর্ভুক্ত সব জমি বন বিভাগের নামে রেকর্ড হবে। এছাড়া বন বিভাগ প্রত্যর্পণ না করলে রিজার্ভড, প্রটেক্টেড বা আ্যকোয়ার্ড হিসেবে চিহ্নিত বনের কোন জমি কারও নামে রেকর্ড করা যাবে না।

 

এদিকে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড হওয়া জমিটি চা- বাগানের জন্য বন্দোবস্ত পেতে তখন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ শামছুল হক ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। এনিয়ে ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম প্রথম আলোর শেষের পাতায় ‘জমি নিলেন ডিসি, চান আওয়ামী লীগ নেতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল মান্নান হাড়ারগজ বন পরিদর্শন করেন। ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই তিনি সিলেটের আঞ্চলিক সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠান। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাড়ারগজ বনের যে জমি ডিসির রেকর্ড হয়েছে, তা বনের মধ্যাংশ। ওই জায়গায় প্রাকৃতিক বন, বাশমহাল ও বিভিন্ন বন্য প্রাণীর আবাস রয়েছে। ২০১৫ সালে বন বিভাগ রেকর্ড সংশোধনের জন্য মৌলভীবাজারের ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে মামলা (নম্বর ২৪৩/২০১৫) করে। মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি।

 

বন বিভাগ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশের অন্যতম চা-শিল্প প্রতিষ্ঠান এম এম ইস্পাহানি লিমিটেড চা- বাগান সম্প্রসারণের জন্য হাড়ারগজ মৌজায় ২ হাজার ১৬৯ দশমিক ৫৯ একর খাস জমি দীর্ঘ মেয়াদে বন্দোবস্ত পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বন বিভাগের করা মামলার নিষ্পত্তি সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মতামত দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাসজমি-১ অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার দাসের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালযয়ের উপসচিব এ এস এম ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়েছে। আমরা বলেছি দেব। এ বিষয়ে আরও বৈঠক হবে।

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার দাস গত শনিবার মুঠোফোনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মিটিং ডাকা হয়। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবেশ, রাষ্ট্রের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।