চরম উদ্বেগে জুড়ীর মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা

প্রকাশিত: ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

চরম উদ্বেগে জুড়ীর মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা

ইমরানুল ইসলাম: করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরে আটকা পড়েছেন জুড়ী উপজেলার মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা। কারও কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মাসের পর মাস কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জন্য তাঁরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কুয়েত থেকে আসা উপজেলার সমাই বাজার এলাকার মাতাবুর রহমান জানান, গত বছরের নভেম্বরে পাঁচ মাসের জন্য তিনি দেশে আসেন। এপ্রিলে প্রবাসে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার রিটার্ন টিকেট ছিল। পরে করোনাভাইরাস মহামারির জন্য ফ্লাইট বাতিল হয়।

 

মাতাবুর রহমান বলেন, ‘দেশে আসার পর থেকে টাকা পয়সা সব শেষ হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। প্রবাসের কর্মস্থলে যেতে পারছি না। এখন নিঃস্ব হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।’

 

ওমান থেকে ছুটিতে আসা উত্তর সাগরনাল গ্রামের রুয়েন আহমেদ করোনাভাইরাসের কারণে দেশে আটকা পড়েছেন। তিনি জানান, কোনওভাবে ওমানের কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেও পারছিনা। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় চিন্তায় আছি আর ফিরতে পারব কি না।

 

রুয়েন আহমেদ উদ্বেগ নিয়ে বলেন, ‘পরিবার–পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব তা ভেবে পাচ্ছি না। আমরা প্রবাসে ফেরত যেতে কিংবা দেশে জীবন চালাতে কি করব ভেবে পাচ্ছিনা।

 

কাতার থেকে আসা একই গ্রামের কমর উদ্দিনের একই অবস্থা। তাঁর দাবী মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকারি উদ্যোগে কর্মস্থলে তাঁদের ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার যাতে ব্যবস্থা নেয়।

 

করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রবাসীরা অর্থাভাব, দুর্ভোগ ও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। প্রায় সবাই ব্যকুল হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন কর্মস্থলে ফিরে যেতে। আর্থিক সংকটে থাকা অনেক প্রবাসী চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে সরকারি কোন সহযোগিতা পান।

 

মৌলভীবাজার জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, প্রবাসীদের একটি ফরম পূরণ করে ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া আপাতত তাঁদের জন্য আর কোনো নির্দেশনা আসেনি।