বৈশ্বিক মহামারিতে পর্যুদস্ত ইউরোপ

প্রকাশিত: ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২০

বৈশ্বিক মহামারিতে পর্যুদস্ত ইউরোপ

অনলাইন ডেস্কঃ নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পর্যুদস্ত ইউরোপ। বৈশ্বিক এ মহামারিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে এই মহাদেশই। এই সংকটকালে ঐক্য সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত হলেও ইউরোপে তা অনুপস্থিত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির দেশে দেশে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক মন্দার চোখ রাঙানির সামনে দাঁড়িয়ে ইউরোপ, যা অঞ্চলটিতে কট্টর জাতীয়তাবাদী চেতনা ও চরম-ডানপন্থী লোকরঞ্জনবাদের উত্থান ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভেঙে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইতালি ও স্পেন। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান মুখোমুখি হয়েছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রের ছয় বিশেষজ্ঞের। লকডাউন-পরবর্তী ইউরোপ কেমন হবে, কীভাবে তাঁরা ঘুরে দাঁড়াতে পারে—এমন বিভিন্ন বিষয়ে মত দিয়েছেন তাঁরা।

 

চার্লস গ্রান্ট, স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান রিফর্মের পরিচালক করোনাভাইরাস তাঁদের আশা দেখাচ্ছে, যারা চাইতেন ইইউ হোঁচট খাক। দেশগুলো নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। সরকারগুলোর মধ্যে আস্থায় চিড় ধরেছে। ইউরোপের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যকার ফাটল আরও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা সরকারি আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে এবং সরকারি ঋণ ও বেকারত্ব বাড়বে। কিন্তু ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট এ প্রভাব সর্বত্র সমানভাবে পড়বে না। ইইউভুক্ত কিছু দেশ বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতের দিকে তাকিয়ে থাকবে। যদিও এই খাতগুলো থাকবে ভীষণভাবে আক্রান্ত। অথচ এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় আসতে পারেননি ইইউর মন্ত্রীরা। কোভিড-১৯ মহামারিতে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালি। করোনাভাইরাস তাঁদের আশা দেখাচ্ছে, যারা চাইতেন ইইউ হোঁচট খাক। দেশগুলো নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। সরকারগুলোর মধ্যে আস্থায় চিড় ধরেছে। ইউরোপের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যকার ফাটল আরও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা সরকারি আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে এবং সরকারি ঋণ ও বেকারত্ব বাড়বে। কিন্তু ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট এ প্রভাব সর্বত্র সমানভাবে পড়বে না। ইইউভুক্ত কিছু দেশ বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতের দিকে তাকিয়ে থাকবে। যদিও এই খাতগুলো থাকবে ভীষণভাবে আক্রান্ত। অথচ এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় আসতে পারেননি ইইউর মন্ত্রীরা। ইতালির মতো দক্ষিণের বেশ কয়েকটি দেশের সামনে ভবিষ্যৎ ভয়াবহ। ইতালি মনে করছে, অভিবাসন সংকটের পর ইইউ তাদের আরেকবার ত্যাগ করল। ইউরো চালুর পর দেশটির অর্থনীতি খুব ধীর গতিতে এগিয়েছে। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১৩৫ শতাংশ। ইতালির লোকরঞ্জনবাদী নেতা মাত্তেও সালভিনি এখন ইইউ সদস্যপদ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী নির্বাচনে সালভিনির জয়ের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এই সংকটে ইউরোপীয় কমিশন শক্তিশালী নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাস্থ্য, সীমান্ত, অর্থনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবগুলো অংশই জাতীয় নেতৃত্বের অধীনেই রয়েছে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) বন্ড কেনার জন্য ৭৫ হাজার কোটি ইউরোর একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। আর্থিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইইউকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন চায় সদস্য দেশগুলো স্বীকৃত বন্ড ছাড়ুক ইইউ। তারা চায়, এই প্রকল্প থেকে আসা অর্থের সবচেয়ে বড় অংশটি পাবে সবচেয়ে নাজুক দেশগুলো, যাতে তারা এ অর্থ স্বাস্থ্য, করপোরেট অনুদান, বেকারত্ব হ্রাস ও বিনিয়োগ উৎসাহে কাজে লাগাতে পারে। বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডসসহ উত্তর ইউরোপের দেশগুলো। তাদের ভয়, এর ফলে কঠিন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চালিয়ে নিতে নিরুৎসাহিত হবে দুর্বল দেশগুলো। তাদের এই যুক্তিকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে ইইউ যদি একটি সমন্বিত আর্থিক নীতি গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে তা অধিকাংশ সদস্য দেশের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।

 

সংকট মোকাবিলায় ইউরোপ যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা-ই মহামারি-পরবর্তী বিশ্বের গতিপথটি নির্ধারণ করে দেবে। ইউরোপের জন্য এখন সুসময় নয়। হাঙ্গেরিসহ বেশ কিছু অংশে কর্তৃত্ববাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে। ঐক্যের মন্ত্র শূন্যগর্ভ প্রতীয়মান হওয়ায় ব্র্যান্ড হিসেবে ইইউর আবেদন কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় নেতৃত্ব নেই। এ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ইইউ তিনটি পন্থায় জোরালো ভূমিকা নিতে পারত। প্রথমত, আঘাতটি বৈশ্বিক হওয়ায় এটি মোকাবিলায় জাতীয় বা আঞ্চলিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব যেমনটা করেছিলেন, ঠিক সেভাবে এগোনো উচিত ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা দাঁড় করাতে আরেকটি ব্রেটন উডস সম্মেলনের প্রয়োজন। অথচ বাস্তবিক বিশ্বের পশ্চিমা বিশ্ব এখন আর উদ্যোগী ভূমিকা নেয় না। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য খাতে একটি বৈশ্বিক অংশীদারত্ব শুরু করা যেতে পারে। বিভিন্ন দেশের সরকারের গৃহীত স্বাস্থ্যনীতিগুলোর দিকে নজর রাখার ক্ষমতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া যেতে পারে, যাতে মহামারির মতো স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক জরুরি পরিস্থিতির বিষয়ে তথ্য বিনিময় সহজতর হয়। তৃতীয়ত, দক্ষিণ এশিয়া, সাব-সাহারান দেশগুলোর মতো যেসব দেশের চিকিৎসা বা আর্থিক সক্ষমতা কম, তাদের সহায়তার লক্ষ্যে ইউরোপ একটি সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ নিতে পারে। ঋণ মওকুফের সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত সহায়তার নীতিগুলো সংস্কার করা জরুরি। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম আয়ের নীতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, এত দিনকার ব্যবসায়ী সংস্কৃতিতে বিশ্ব হয়তো আর পুরোপুরি ফিরবে না।

 

ইউরোপ যদি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্প ও মধ্য মেয়াদের কোনো উপায় খুঁজে পায়, তবে এই সংকটই সম্ভাবনা হয়ে দেখা দেবে। এই মুহূর্তে সমন্বিত লকডাউন কৌশল অনুসৃত হচ্ছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে। এরপরই রয়েছে দুটি চ্যালেঞ্জ—তারল্য ঠিক রাখতে অর্থনৈতিক উপায়গুলো নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন। আর্থিক বোঝা লাঘবে ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়াটা জরুরি। এ জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ইউরোপের একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজন পড়বে। এ ক্ষেত্রে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ব্যয় সংকোচনের প্রতি ইইউর অহেতুক পক্ষপাত রয়েছে, যা সংকটকে জটিল করে তোলে এবং বেকারত্ব বাড়িয়ে দেয়। এবার ইউরোপকে বিনিয়োগ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। আর এটি হতে হবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার কথা মাথায় রেখেই। মহামারি থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপকে একটি টেকসই অর্থনীতির দিকেই এগোতে হবে। এ জন্য দূষণহীন ও জলবায়ুবান্ধব অর্থনীতিকে প্রণোদনা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান।

 

জনস্বাস্থ্যের মতো বিষয় জাতীয় সরকারের আওতাধীন, ইইউর নয়। যদিও এই সংকটে ইউরোপের প্রতিক্রিয়াকে ইইউর অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখানোর প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সদস্য দেশগুলোর জাতীয় পর্যায়ের সম্পদ ও দায়িত্বশীলতার মতো বিষয়গুলো ইইউর নেতৃত্বাধীন নয়। এই পরিস্থিতিকে ইউরোপের সম্মিলিত শক্তির সঙ্গে জুড়ে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্মী, প্রতিষ্ঠান ও সদস্য দেশগুলোকে সহায়তায় ইউরোপের অর্থমন্ত্রীরা তিনটি উপায়ের কথা বলছেন। ভয়াবহ পতন এড়ানোকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স ও জার্মানি। কিন্তু ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ এখন ‘করোনা ফান্ড’ নিয়েই মেতে থাকবেন, যাতে স্বাস্থ্য খাত ও দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনকে এগিয়ে নেওয়া যায়। এই মহামারি গণ-অর্থায়ন ও গণশক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ দাবি করছে। ইউরোপজুড়ে মৃত্যুহারের পাশাপাশি অঞ্চলের অর্থনীতি সম্পর্কিত বিশ্বাসযোগ্য ও তুলনামূলক তথ্যের অনুপস্থিতি এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুতের পাশাপাশি ইউরোপকে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কোভিড-১৯ ব্যক্তি, সমষ্টি ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মানসিক সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে উপদ্রুত দেশের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের এটা নিশ্চিত করাও জরুরি যে, এই প্রক্রিয়ায় হওয়া ব্যয়ভার শুধু তাদের একার বহন করতে হবে না।

 

নতুন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এ সংকট পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্য থাকা ব্যবধানটিকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় থাকা তহবিল সংকট ও ১৯৯০ সালের পর্যায়েই তার থেকে যাওয়ার বিষয়টি আচমকা উপলব্ধি করে ভীত হয়ে পড়ে। কঠোরভাবে লকডাউনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরও তাই তারা সামাল দিতে পারেনি। এই সংকট একই সঙ্গে পূর্ব থেকে পশ্চিম ইউরোপে মেধাপাচারের বিষয়টি দৃষ্টিগ্রাহ্য করেছে। ইইউ এই সংকটকে আর অস্বীকার করতে পারবে না। মহামারি মোকাবিলায় জার্মানির সাফল্যের মূলে রয়েছে অভিবাসী চিকিৎসকেরা, যাদের অনুপস্থিতিই ভোগাচ্ছে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপকে। অদ্ভুত শোনালেও সত্য যে, এই একই সময়ে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে ফিরে এসেছে অন্য পেশাজীবীরা। মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম ইউরোপে চাকরি খুইয়ে বুলগেরিয়ায় ফিরতে হয়েছে ২ লাখ মানুষকে। ৩০ লাখ শ্রমশক্তির দেশের এটি একটি বড় সংখ্যা। রোগ নিয়ে ফিরেছে কিনা, সে ভাবনার বাইরে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের কর্মহীনতার বিষয়টি। এই প্রেক্ষাপটে ইইউর উচিত হবে সর্বজনীন শ্রম বিমা ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা। মহামারি-পরবর্তী ইউরোপে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, লোকরঞ্জনবাদী প্রবণতার একটা সীমা আছে, যা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না।

 

ইউরোপের পুনর্গঠনের জন্য ৫০ হাজার কোটি ইউরোর যে তহবিলের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ট্র্যাজেডি থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যতের জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও ডিজিটাল অর্থনীতি নির্মাণের জন্য এটি যথেষ্ট নয়। এই মহামারির দায় শোধেই এটি ব্যয় হয়ে যাবে। সরকারি বিনিয়োগ নিয়ে তাই নতুন করে ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক নয়া-উদারবাদী দশকগুলোর দিকে তাকানোর বদলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন তত্ত্ব কিনেসিয়ান তত্ত্ব (নিম্ন কর হার ও উচ্চ সরকারি ব্যয় যার মূল কথা এবং যেখানে কর্মসংস্থানকে সরবরাহের বদলে চাহিদা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে) থেকে পাঠ নেওয়া যেতে পারে। শুধু অর্থনীতি নয়। গণতন্ত্রের ওপর ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কোনোটির শাসক কর্তৃত্ববাদী হলে ইইউ অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। লোকরঞ্জনবাদীরা যেমনটা বলেন, সেভাবে যদি ইইউর সদস্য দেশগুলোর মধ্য সংহতি কমিয়ে ন্যূনতম রাজনৈতিক সংযোগের বিষয়টিকে গ্রহণ করা হয়, তবে তা ইউরোপ ও বিশ্বের কাছে নিজের আবেদন হারাবে। ইউরোপ বর্তমানে আত্মকেন্দ্রিকতার উত্থানের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু, অন্য অঞ্চলগুলোয় মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় পশ্চিমা সহায়তার চাহিদা অনেকাংশে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হলে, পুরো বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।